Pol Science

সাম্প্রতিক কালে একটি স্বতন্ত্র শাস্ত্র হিসেবে রাষ্ট্র বিজ্ঞান আত্মপ্রকাশ করলেও এর পিছনে রয়েছে বিবর্তনমূলক এক ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক অ্যারিস্টটল আড়াই হাজার বছর আগে সমকালীন গ্রীক নগর রাষ্ট্রসমূহ এবং তাদের অনুসৃত নীতি ও সমস্যা সংক্রান্ত আলোচনাকে বোঝাতে 'রাজনীতি' বা 'Politics' শব্দটি ব্যবহার করেন। এই 'politics' শব্দটি এসেছে গ্রীক শব্দ 'polis' থেকে যার আক্ষরিক অর্থ হল নগররাষ্ট্র। রাজনীতি হল মূলত প্রাচীন গ্রীক নগর রাষ্ট্র ও তার নাগরিকদের নিয়ে আলোচনা। 'রাজনীতি' যখন শাস্ত্র হিসেবে আলোচিত হয় তখন 'রাজনীতি' বলতে ব্যক্তির কার্যকলাপ, রাষ্ট্রব্যবস্থা, শাসকের কার্যকলাপ অর্থাৎ রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ব্যবহারিক দিক বোঝায়। আবার 'রাজনীতি' যখন সংকীর্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়, তখন সেটি হল বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের উপায়।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান শুধু একটি আধুনিক শাস্ত্র নয়, এটি একটি গতিশীল সামাজিক বিজ্ঞান এবং তা অন্যান্য সমাজ বিজ্ঞানের মতোই মানুষ এবং তার সামাজিক পরিবেশকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত। অন্যান্য সমাজ বিজ্ঞানের মতোই এটি একটি প্রাচীন সামাজিক বিজ্ঞান এবং সমাজ, সভ্যতা, মানুষের জীবনের পরিবর্তনের সাথে সাথে এর প্রকৃতি এ পরিধির পরিবর্তন হয়েছে। এমনকি রাষ্ট্রবিজ্ঞান নামটিও বহু পরিবর্তন বিবর্তনের মধ্য দিয়ে এসেছে। বহু রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বিভিন্ন দৃষ্টি কোন থেকে একে সংজ্ঞায়িত করেছেন। এ প্রসঙ্গে জেলিনেক যথার্থই বলেছেন যে, 'সঠিক নামকরনের সমস্যা নিয়ে অন্যান্য সামাজিক বিজ্ঞানের তুলনায় রাষ্ট্রবিজ্ঞান অধিক বিব্রত।'

সনাতন ধারণা অনুসারে রাষ্ট্রের উৎপত্তি, প্রকৃতি, উদ্দেশ্য, কার্যাবলী প্রভৃতি যে শাস্ত্রে আলোচিত হয়, তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বলে অভিহিত করা হয়ে থাকে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী গার্নার (J.W.Garner) এর ভাষায় রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শুরু এবং শেষ রাষ্ট্র নিয়েই (Polotical science begins and ends with the state)। আবার ব্লুন্টসলি (Bluntschli) এর মতে, রাষ্ট্রবিজ্ঞান হল রাষ্ট্রের বিজ্ঞান (Political science is the science of the state)। এর মুখ্য আলোচ্য বিষয় রাষ্ট্র ও সরকার।

আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে রাষ্ট্রকেন্দ্রিক আলোচনার ধারাকে নাকচ করে দিয়ে ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর আচরনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। রবার্ট ডাল ও লাসওয়েল (Robert Dhal & Lasswell) রাজনীতিকে প্রভাব ও প্রভাবশালীদের পর্যালোচনা রুপে উল্লেখ করে রাজনৈতিক ক্ষমতাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বিষয়বস্তু করতে চেয়েছেন। আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতে, যে শাস্ত্র রাষ্ট্র ও সরকার ছাড়াও রাজনৈতিক দল, স্বার্থগোষ্ঠী, বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠন, মানুষের রাজনৈতিক আচরণ, ক্ষমতা, প্রভাব, সংঘাত প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা করে, তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বলে।

তাই বলা যায়,রাষ্ট্রবিজ্ঞান হল সমাজ বিজ্ঞানের সেই শাখা, যা বিজ্ঞানভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে রাষ্ট্র সম্পর্কিত তত্ত, সংগঠন, শাসনপদ্ধতি, রাষ্ট্রের সঙ্গে নাগরিকের সম্পর্ক, সংবিধান, সরকার, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ,আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষণ, আন্তর্জাতিক আইন, রাজনৈতিক আচরন, ক্ষমতা, দ্বন্দ্ব, বিরোধ, প্রভাব প্রভৃতি বিষয়ে বিজ্ঞান নির্ভর আলোচনা ও মূল্যায়ন করে।

  • Live Video Class
    • Chat: While Live class any device
  • Notes: Verified contents from teachers login access
  • Learn: Study live, Get notes Pepare Youself
  • Test: online exam whatever learn secure learning
  • Passed: With your subject & technological knowledge Smart Student